কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬ এ ১২:২২ PM
কন্টেন্ট: পাতা
ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার (১ ডিসেম্বর ১৯৩১- ১২ জুলাই ২০২৬) জমির উদ্দিন সরকার ১ ডিসেম্বর ১৯৩১ সালে পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে বিএ (অনার্স), এমএ ও পরবর্তীকালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি পাশ করেন। পরে লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-এট-ল সনদ লাভ করেন। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান হাইকোর্ট থেকে সনদ নিয়ে ২৭ মে ১৯৬০ সালে আইন পেশায় যোগদান করেন। তিনি বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টে সংবিধান, দেওয়ানী ও ফৌজদারী আইন বিশেষজ্ঞ ছিলেন। ১৯৪৫ সালে ছাত্র থাকা অবস্থায় তৎকালীন ছাত্র ফেডারেশনের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। পরে তিনি ছাত্র ইউনিয়ন ও ন্যাপের সমর্থক ছিলেন। আইন পেশায় সুনাম ও খ্যাতি অর্জন করায় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত তাকে পাঁচবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে পাঠান। দল গঠনের প্রথম পর্যায়ে জিয়াউর রহমান জাগদল গঠন করলে তিনি তাতে যোগ দেন।তিনি ছিলেন জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল বা জাগদলের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য। পরে বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি স্থায়ী কমিটির সদস্য হন। জমির উদ্দিন সরকার ২১ জুন ২০০২ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর ২০০২ সাল পর্যন্ত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জমির উদ্দিন সরকার জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় ৬ এপ্রিল ১৯৮১ থেকে ২৭ নভেম্বর ১৯৮১ সাল পর্যন্ত গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় বর্তমান সংসদ ভবনের অসমাপ্ত কাজ শেষ করেন। আব্দুস সাত্তারের মন্ত্রিসভায় তিনি ২৭ নভেম্বর ১৯৮১ থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৮২ সাল পর্যন্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি পঞ্চম জাতীয় সংসদে বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম মন্ত্রিসভায় ২০ মার্চ ১৯৯১ থেকে ২৮ আগস্ট ১৯৯১ পর্যন্ত ভূমিমন্ত্রী ও ১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৯১ থেকে ১৯ মার্চ ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে গঠিত স্বল্পকালীন বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় তিনি ১৯ মার্চ ১৯৯৬ থেকে ৩০ মার্চ ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি অষ্টম জাতীয় সংসদে ২৮ অক্টোবর ২০০১ থেকে ২৫ জানুয়ারি ২০০৯ সাল পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জমির উদ্দিন সরকার নূর আখতারকে বিয়ে করেন, যিনি ২০২৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন। এই দম্পতির এক কন্যা ও দুই পুত্র রয়েছে। তাঁর জৈষ্ঠ্য পুত্র সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহম্মদ নওশাদ জমির বর্তমানে পঞ্চগড়-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য। প্রকাশিত বই ১) গণতন্ত্রের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ ২) এক নজরে সংসদ সম্পর্কিত বিধিবিধান ৩) লন্ডনে শিক্ষা জীবন ৪) স্টুডগার্ট ইউনাইটেড ম্যাগনামস ফর পিসফুল ওয়েলফেয়ার ওয়ার্ল্ড ৫) পাল রাজ থেকে পলাশী এবং ব্রিটিশ রাজ থেকে বঙ্গভবন ৬) গ্লিমপসেস অব ইন্টারন্যাশনাল ল ৭) অষ্টম সংসদে স্পীকার ৮) দি ল অব দি সি ৯) ল অব দি ইন্টারন্যাশনাল রিভার্স অ্যান্ড আদার ওয়াটারকোর্সেস ১০) লন্ডনে বন্ধু-বান্ধব ১১) লন্ডনে ছাত্র আন্দোলন ১২) বাংলাদেশে গণতন্ত্রের উত্তরণ ও ডিগবাজি
ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন সরকার ২০২৬ সালের ১২ জুলাই ভোররাত ০৪:১৮ মিনিটে বার্ধক্যজনিত কারণে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।
ভাষা সৈনিক মোহাম্মদ সুলতান
ভাষা সৈনিক মোহাম্মদ সুলতান এর জন্ম ১৯২৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার অর্ন্তগত মাঝগ্রামে। বৃটিশ আমলের পুলিশ বিভাগের ঝানু অফিসার ডেপুটি সুপারিনন্টেন্ডেন্ট অব পুলিশ পিতা মরহুম মোহাম্মদ শমসের আলী স ছিলেন কর্তব্যপরায়ন এবং স্বাধীনচেতা। মোহাম্মদ সুলতান যশোর জেলা স্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার আগেই মাকে হারান। স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে। তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫৩ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মোহাম্মদ সুলতান স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। মোহাম্মদ সুলতান কৈশোরেই 'ভারত ছাড়' বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে প্রথম আকৃষ্ট হন রাজনীতিতে। ১৯৪৬ সালে পাকিস্তান আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীকালে ১৯৪৮ সালে রাজশাহীতে ভাষা আন্দোলন এবং ছাত্র আন্দোলনে মোহাম্মদ সুলতান অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৫১ সালে যুবলীগে যোগ দেন এবং যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন। মোহাম্মদ সুলতান ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম কালো পতাকা উত্তোলনকারী ছাত্র। সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ১৪৪ ধারা ভংগ না করার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর যে ১১ জন সংগ্রামী ছাত্রনেতা ফজলুলহক হলের পুকুর পাড়ের সিঁড়িতে বসে রাত্রি ১টায় ১৪৪ ধারা ভাংগার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মোহাম্মদ সুলতান ছিলেন তাদের অন্যতম।
রাজনৈতিক আন্দোলনের সাথে সাথে সাংস্কৃতিকআন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সুলতান বিশেষভাবে ওয়াকিবহাল ছিলেন এবং আন্দোলনের ইতিহাসকে লিপিবদ্ধ করে রাখার উপর সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করেন। ভাষা আন্দোলনের পর তিনি এমআর আক্তার মুকুলের অংশীদারিত্বে প্রধানত রাজনৈতিক উদ্দ্যেশে পুস্তক বিক্রয় কেন্দ্র 'পুথি পত্র' প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৫৩ সালের মার্চ মাসে কবি হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক সংকলন 'একুশে ফেব্রুয়ারি' প্রকাশ করেন। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসকে সাহিত্যের মাধ্যমে ধরের রাখার ঐতিহাসিক দায়িত্ব তিনি পালন করেন। অবশ্য প্রকাশনার কিছুদিন পরেই মুসলিম লীগ সরকার 'একুশে ফেব্রুয়ারি' বইটি বাজেয়াপ্ত করেন।
১৯৮৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলাবাসীকে কান্নার সাগরে ভাসিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ৩নং ওয়ার্ডের করিডোরে চিরতরে বিদায় নেন সর্বজন শ্রদ্বেয় ব্যক্তিত্ব, রাজনীতিক, ভাষা সৈনিক মোহাম্মদ সুলতান।
বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম
এ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম পঞ্চগড় জেলার বোদা থানার ময়দানদীঘি ইউনিয়নের মহাজন পাড়ায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে চল্লিশ এর দশকে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ইমাজ উদ্দীন আহম্মেদ এবং মাতার নাম কবিজান নেছা। ছাত্র জীবন থেকেই ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলাদেশ ছাত্র লীগের তৎকালীন সময়ে প্রত্যক্ষ সংগ্রামে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। ৫২ এর ভাষা আন্দোলন ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন ৬৬ ছয় দফা এবং সর্বোপরি ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি ছাত্রলীগের বৃহত্তর দিনাজপুর জেলার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং একাধারে রাজশাহী বিভাগীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়াও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক এবং ডাকসুর সহ-সম্পাদকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসীন ছিলেন। ১৯৭০ সালে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য হিসেবে পঞ্চগড় থেকে নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ৬নং সেক্টরের বেসামরিক উপদেষ্টা হিসেবে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে তেঁতুলিয়াকে মুক্তাঞ্চলের তীর্থভূমি হিসেবে সারা বিশ্বের কাছে পরিচিত করান। বঙ্গবন্ধুর ২য় বিপ্লব কর্মসূচীর ডাকে সাড়া দিয়ে বাকশালের ঠাকুরগাঁও জেলার সাধারণ সম্পাদক মনোনিত হন। এ ছাড়াও তিনি একাধিকবার জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ১ম আর্ন্তজাতিক সম্পাদক হিসেবে মূল্যবান দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৭ সালে ২রা জুন মৃত্যুকালীন পর্যন্ত পঞ্চগড় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনার কর্মসূচী বাস্তবায়নে নিয়োজিত ছিলেন।
কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদ ১৯৩৮ সালে পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মরহুম আহমেদ সাদাকাতুল বারি এবং মাতার নাম মরহুমা তৈয়বুন্নেসা। মোহাম্মদ ফরহাদ ১৯৫৩ সালে দিনাজপুর জেলা স্কুল থেকে প্রবেশিকা, সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও গ্রাজুয়েশন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম এ ডিগ্রী অর্জন করেন। ১৯৫২ সালে ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন এবং ১৯৫৪ সালে প্রথম কারাবরণ করেন। ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র থাকা অবস্থায় পাকিস্তানের আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে জঙ্গী ছাত্র আন্দোলনে ও শিক্ষা আন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদান করেন। ১৯৬৮ সালে কমিউনিস্ট পার্টির প্রথম কংগ্রেসে (সম্মেলন) কেন্দ্রীয় সম্পাদক মন্ডলীর অন্যতম সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। সি,পি,বি, ন্যাপ ও ছাত্র ইউনিয়নের যৌথ গেরিলা বাহিনীর (মুক্তি বাহিনী) প্রধান সংগঠক ও অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৩ সালে কমিউনিস্ট পার্টির দ্বিতীয় কংগ্রেসে কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে তিনি অন্যতম প্রধান সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন। ১৯৮৬ সালে তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। ৫২’র বাংলা ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে এদেশের সকল গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল আন্দোলনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন।
মির্জা গোলাম হাফিজ
মির্জা গোলাম হাফিজ ১৯২০ সালের ২রা জানুয়ারী পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলাধীন মির্জাপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। জনাব হাফিজের স্কুল ও কলেজ জীবন কাটে যথাক্রমে জলপাইগুড়ি ও রাজশাহীতে। মির্জাপুর স্কুল থেকে বৃত্তি নিয়ে কৃতিত্বের সাথে পাশ করার পর তিনি ১৯৩১ সালে জলপাইগুড়িতে ফনিন্দ্র দেব ইনস্টিটিউশনে ভর্তি হন এবং ১৯৩৫ সালে ঐ স্কুল থেকে তারকাসহ প্রথম শ্রেণীতে এবং জলপাইগুড়ি জেলার মধ্যে প্রথম হয়ে ম্যাট্রিক পাশ করেন। ১৯৪১ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এম এ এবং ১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএল ডিগ্রী লাভ করেন।
জনাব হাফিজ ১৯৫৪ সালে পঞ্চগড় নির্বাচনী এলাকা হতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান আইন সভার সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৮ সালে ২৯ শে জুন তিনি ভূমি প্রশাসন ও ভূমি সংস্কার মন্ত্রী নিযুক্ত হন। ১৯৭৯ অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে তিনি ঢাকা থেকে (রমনা, মতিঝিল থানা) বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ সালে ২রা এপ্রিল তিনি জাতীয় সংসদের স্পীকার নির্বাচিত হন। ১৯৮২ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে তিনি আটোয়ারী-তেঁতুলিয়া- পঞ্চগড় সদর নির্বাচনী এলাকা থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং ১৯৯১ সালের ২৩ মার্চ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী নিযুক্ত হন।
প্রথিতযশা এই প্রবীন রাজনীতিক ২০০০ সালের ২০ ডিসেম্বর বার্ধক্য জনিত কারণে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।
চিত্রনায়ক আব্দুর রহমান
উপমহাদেশের প্রখ্যাত চলচিত্র অভিনেতা আব্দুর রহমান ওরফে নায়ক রহমান পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলার রসেয়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মো: হাফিজ উদ্দিন। তার অভিনয় উপমহাদেশের মানুষের হৃদয়ে এক নতুন আলোড়ল সৃষ্টি করেছিল। রহমান-শবনম জুটি সমসাময়িক কালে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবিগুলোর মধ্যে তালাস, জোয়ার-ভাটা, আমার সংসার, মিলন অন্যতম। |